জুলাই ২
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা
-
আপলোড সময় :
০২-০৭-২০২৫ ১০:০৯:২৯ পূর্বাহ্ন
-
আপডেট সময় :
০২-০৭-২০২৫ ১০:০৯:২৯ পূর্বাহ্ন
জুলাই গ্রাফিতি।
সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৮ সালে জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে আবারও অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীরা। ২০২৪ সালের ২ জুলাই, এক বছর পর তারা আবার শাহবাগে এসে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এদিন, প্রায় এক ঘণ্টা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এর আগে, মিছিল বের করা হয়, যার মধ্যে হাজার হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে শুরু হয়ে নীলক্ষেত, সায়েন্স ল্যাব, বাটা সিগন্যাল মোড় হয়ে শাহবাগে গিয়ে জমায়েত হয়। এ সময় মিছিলে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীরা স্লোগান দেন, কোটা না মেধা, মেধা মেধা, আঠারোর পরিপত্র-পুনর্বহাল করতে হবে, কোটা প্রথা নিপাত যাক- মেধাবীরা মুক্তি পাক, ছাত্রসমাজ গড়বে দেশ, মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ ইত্যাদি।
শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করার পর, বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে আন্দোলনকারীরা মূল সড়ক ছেড়ে দেন, যার ফলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, এটা শুধু শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীদের আন্দোলন নয়। এটা একটি রাষ্ট্রের বিষয়। মুক্তিযোদ্ধা কোটা আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এক নয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কোনো বংশগত পরম্পরার বিষয় নয়, এটি একটি রাষ্ট্রীয় আদর্শ। এই আদর্শকে আমরা তরুণেরা ধারণ করি। এজন্যই আমরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছি।
এদিন, ৩ জুলাই আন্দোলনকারীরা আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান নেবেন বলে ঘোষণা করেছেন নাহিদ। তিনি দেশব্যাপী সকল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একই ব্যানারে একই সময়ে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আব্দুল কাদির বলেন, ৪ দফা দাবিতে আমাদের এই আন্দোলন আগামী ৪ জুলাই হাইকোর্টের শুনানি পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। ছাত্রসমাজ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে নায্য আন্দোলন জারি রাখবে।
এদিন, আরও একটি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায়। ওইদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের সামনে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং প্রধান ফটকে এসে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ২৫ মিনিট অবরোধ করে রাখেন। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে বেলা ১১টায় ঝাল চত্বর থেকে মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এক স্থানে এসে মিলিত হয়। শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের পক্ষে তাদের চার দফা দাবি তুলে ধরেন।
আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে ছিল, ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখা। ২০১৮ সালের পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সরকারি চাকরিতে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দেওয়া। এছাড়াও, সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া এবং দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।
এর আগে, ২০১৮ সাল পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত ছিল। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ সংরক্ষিত ছিল। পরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা বাতিল করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের সুপারিশ করে মন্ত্রিসভা। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে কোটা ব্যবস্থা বহাল রাখা হয়। ওই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ হয়। এর মাধ্যমে ৪৬ বছর ধরে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে যে কোটাব্যবস্থা ছিল, তা বাতিল হয়ে যায়।
২০২১ সালে সেই পরিপত্রের মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের অংশটিকে চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উচ্চ আদালতে রিট করেন। সেই রিটের রায়ে ২০২৪ সালের ৫ জুন পরিপত্রের ওই অংশ অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এরপর থেকে চাকরি প্রত্যাশী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমে আসে।
সেদিনের আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দিল। শিক্ষার্থীরা সরকারের কাছ কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবি জানায় এবং তাদের দাবির প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। তারা বলেছে, সরকার যদি তাদের দাবি না মেনে নেয় তবে তারা আবারও রাজপথে নামবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : নিজস্ব প্রতিবেদক
কমেন্ট বক্স